জুমার দিনের ফজিলত ও করণীয় আমলসমূহ | মোবারক দিনে বিশেষ ইসলামিক গাইড..
জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ: গোসল, সূরা কাহফ, দরুদ ও দোয়া–সহ সহজ ও কার্যকর নির্দেশনা। প্রতিটি জুমা হোক বরকতময়।..
জুমার দিনের ফজিলত ও করণীয় আমলসমূহ
জুমার দিন ইসলামি জীবনে এক মহিমান্বিত দিন, যাকে ‘সাপ্তাহিক ঈদ’ বলা হয়। এ দিনে সঠিক প্রস্তুতি ও ইবাদত করলে মহান আল্লাহর বিশেষ নেছত পাওয়া যায়।
১. জুমার দিনের ফজিলত (গুণাগুণ)
- সকল দিনের সেরা দিন – আল্লাহ আদম (আঃ) সৃষ্টি, জান্নাতে প্রবেশ ও বের করা, এবং কিয়ামত এই দিনেই হবে।
- সপ্তাহের ঈদ – মুসলমানদের জন্য এটি সপ্তাহের ঈদুল ফিতর ও আজহার সমমূল্য।
- দোয়ার কবুলের সময় – জুমার দিনে বিশেষ মুহূর্তে দোয়া কবুল হয়, বিশেষত আসর থেকে মাগরিবের মধ্যে।
- সৃষ্টির ভয়ানক দিবস – মানুষের সঙ্গে সমস্ত সৃষ্টি কিয়ামতের ভয় পান করে।
- জান্নাতের আনন্দঘন দিন – ফেরেশতারা ‘ইয়াউমুল মাযীদ’ নামে স্মরণ করেন; জান্নাতে বিশেষ অনুষ্ঠান হবে।
২. করণীয় আমলসমূহ
১. গোসল, বর্ষবিহীন পোশাক ও সুগন্ধি
বুকার ও আহমদের হাদিসে: “জুমার দিন গোসল, উত্তম পোশাক ও সুগন্ধি ব্যবহার করলে আগের জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সব ছোট পাপ মাফ হয়।”
২. সময়মতো মসজিদে আগমন
আগে আসা ব্যক্তির জন্য সদকা সওয়াবের উপমা যেমন—উট, গরু, মুরগি সদকা করার সমান সওয়াব পাওয়া যায়।
৩. মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা
ইমাম শুরু থেকে সালামে খুতবা মনোযোগে শোনা হলে কোরআন সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসারে আয়াতমতো আমল হয়। আবু দাউদে বর্ণিত, এতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জুমার ছোট সকল গুনাহ কাফারা হয়।
৪. সারারাত দোয়া ও তাসবিহে অবস্থান
জুমার রাতে (যা বৃহস্পতিবারের রাত বলা হয়) আল্লাহর নৈকট্যের জন্য বেশি কিয়াম, দোয়া এবং দোআ মোনাজাত করা সুন্নাহ এবং পবিত্র প্রার্থনা আল্লাহর নিকট পেশ করা হয়।
৫. সূরা কাহফ তেলাওয়াত
যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহফ পড়েন তিনি পরবর্তী জুমা পর্যন্ত আলোর (নূর) মধ্যে থাকেন; শেষ ১০ আয়াত দাজ্জালের প্রতিরোধ গুণ বহন করে ।
৬. দরুদ শরীফ পাঠ
আবু দাউদ ও মুসনাদে হাদিসে বর্ণনায়: “জুমার দিনে দরুদ পাঠ করো, কারণ তা আমাকে আমার সামনে পেশ করা হয়। একবার দরুদে ১০ রহমতের বরকত আসে” ।
৭. বেচাকেনা বন্ধ রেখে আল্লাহর স্মরণে উপস্থিত থাকা
সূরা জুমা আয়াত ৯ নির্দেশ দেয়: আজানের সময় ব্যবসা-কারবার বন্ধ করে আল্লাহর স্মরণে সময় দিন।
৮. বিশেষ মুহূর্তে দোয়া করা
এ দিনের একটি সম্মানিত সময় আছে, যেখানে দোয়া করলে তা কবুল হয়; এতে আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়টিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় ।
- জুমার দিন কেবল নামাজের নাম নয়, এটি আত্মিক উন্নতির এক সুবর্ণ সুযোগ।
- গোসল, পরিশুদ্ধতা, সুগন্ধি, সকালের প্রথম দিকে মসজিদে যাওয়া,—এগুলো হাদিসে নির্দেশিত উত্তম প্রস্তুতি।
- সূরা কাহফ, দরুদ ও দোয়া-ইবাদত মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়।
- আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়টিতে দোয়া ও তাসবিহ-তাহলিলে বেশি সময় দিন—এটি দোয়া কবুলের যুগান্তকারী সময়।
মন্তব্য ও আলোচনার জন্য অনুগ্রহ করে শেয়ার-বাটনে ক্লিক করুন এবং পছন্দের প্রস্তুতি নিন, যেন প্রতিটি জুমা আপনার জীবন ও দুনিয়ার জন্য হোক বরকতময়।
1 Comments